বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমা-বাড়ার মধ্যে থাকলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
গত ২৬ দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার অববাহিকার রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক চরাঞ্চলের তিন লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষ করে দুর্গম চর ও দ্বীপচরগুলোর মানুষজনের ঘরে এখনও এক কোমর, এক গলা পানি থাকায় ছোট ছোট নৌকায় বসবাস করছে এসব এলাকার মানুষজন। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে এভাবে বসবাস করায় খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে উঠছে।
পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো খাদ্যের সংকট তাদের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বড় নৌকা দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটছে বন্যা দুর্গতরা।
এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানি বাহিত নানা রোগ। উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চরের সাজেদা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নৌকার মধ্যে খেয়ে না খেয়ে থাকছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পাননি। পানিতে থাকতে থাকতে হাতে-পায়ে ঘা হয়ে গেছে। খাবার পানিও নাই। এই বন্যার পানি যে কতদিনে নামবে তারও ঠিক নাই।
উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি যে ত্রাণ পেয়েছি, তা বন্যা কবলিত সব পরিবারকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বন্যা কবলিত মানুষজন খুবই কষ্টে দিন পার করছে। তাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।’
সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১৭০ মেট্রিক টন চাল, জিআর ক্যাশ নয় লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণ করা হলেও বেশির ভাগ বানভাসী হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যে জুটছে না তা।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, ত্রাণের পাশাপাশি চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে জেলার চার লাখ ২৮ হাজার ৫২৫ পরিবারকে ভিজিএফ-এর ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। ত্রাণের পাশাপাশি এই চাল বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের উপকারে আসবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানির তোড়ে রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার ক্রস বাঁধটি ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বালির বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চলছে।
নগরকন্ঠ.কম /এআর